পটুয়াখালী সংবাদদাতা
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ধান কেনা সিন্ডিকেটের
শিকারে পড়েছে হাজারো কৃষক পরিবার। ধান কাটা, মাড়াই থেকে বিক্রির পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ
করছে কয়েকটি মধ্যস্বত্বভোগী চক্র। প্রান্তিক কৃষকরা বিক্রির সময় প্রায় ২০০ টাকা কম
দরে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে সিন্ডিকেটের হাত দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতছাড়া
হচ্ছে।স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ৪৬-৪৮ কেজি ওজনের এক মণ ধান (জাত ভেদে) তারা ৯৬০ থেকে
১১৫০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য। সিন্ডিকেটের বাইরে বিক্রির সুযোগ না থাকায় তাদের হাতে
বিকল্প নেই। শতকরা ৮০ ভাগ কৃষক পরিবারের ওপর এই সিন্ডিকেটের প্রভাব রয়েছে।
বালিয়াতলী ইউনিয়নের বড়-বালিয়াতলী গ্রামের
এক কৃষক জানান, তিনি পাঁচ কানি জমিতে ধান উৎপাদন করেছেন। ফলন প্রায় ৩৫০ মণ হলেও নির্দিষ্ট
পাইকারের আড়তে বিক্রি করতে হয়েছে। “অন্যত্র বিক্রি করলে সমস্যায় পড়তে হতো। যদি স্বাধীনভাবে
বিক্রি করার সুযোগ থাকত, প্রতি মণ অন্তত দুইশ’ টাকা বেশি
পাওয়া যেত,” তিনি জানান। একজন ছোট কৃষক বলেন, “জোরজুলুম থেকে রেহাই নেই। ধান কাটা-মাড়াই
করতে নির্দিষ্ট মেশিন ছাড়া অন্য কোথাও গেলে পুলিশি শাস্তির ভয় থাকে।”
ধুলাসার, ডালবুগঞ্জ, নীলগঞ্জ, মিঠাগঞ্জ, ধানখালী, চম্পাপুর, মহিপুর ও টিয়াখালী এলাকায়
এমন সমস্যা সর্বজনবিদিত। তবে চাকামইয়ায় এ বছরের চাপ কম ছিল বলে অনেক কৃষক মত দিয়েছেন।
কৃষকরা জানান, এক কানি জমি চাষ করতে
খরচ পড়ছে ৪৬–৫০ হাজার টাকা,
ফলন ৭০–৯০ মণ হলেও বিক্রি
থেকে আয়ের সর্বোচ্চ সীমা ৯৫ হাজার টাকা। নিজের জমি না থাকলে খরচ আরও বাড়ে। এ পরিস্থিতিতে
প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিরা অত্যন্ত দুরবস্থায় রয়েছেন।কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা
আরাফাত হোসেন বলেন, বিষয়টি তারা অবগত আছেন, কিন্তু কৃষকরা সরাসরি অভিযোগ করছেন না।
“আমরা সমাধানের চেষ্টা করব,” তিনি জানান। কলাপাড়া খাদ্য গুদামের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি
খামারে ধান কেনার মাত্রা এ বছর মাত্র ২৩১ টন। এতে ৪৬ কেজির মণের দাম পড়ছে ১৪৬৪ টাকা।
কিন্তু কৃষকরা বিপুল পরিমাণ ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন ৯৬০ থেকে সর্বোচ্চ ১২০০ টাকা
মণ দরে। এতে তাদের ক্ষতি হচ্ছে কমপক্ষে ৩৫ কোটি টাকা।উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার
হামিদ জানান, তিনি মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
মন্তব্য করুন