শেরপুর সংবাদদাতা
শেরপুরে কৃষি জমির টপ সয়েল বা উর্ব্বর মাটি এস্কেভেটর মেশিন (খননকারী যন্ত্র) দিয়ে কেটে নিচ্ছেন ইটভাটা মালিকরা। জেলার পাঁচ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে টপসয়েল যাচ্ছে ইটভাটায়। এতে শত শত একর কৃষি জমি ফসল উৎপাদনের বাইরে চলে যাচ্ছে।
সরেজমিন জেলা সদরের বাজিতখিলা, কান্দাপাড়া, বামনের চর, শ্রীবরদী উপজেলার খরিয়া কাজীরচর ইউনিয়নের গলকাটা গ্রাম, নালিতাবাড়ী পৌর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়- খননকারী যন্ত্র দিয়ে ফসলী জমির তিন-চার ফুট পর্যন্ত মাটি তুলে ট্রাক ভর্তি করে ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। দৈর্ঘ-প্রস্থ সমান প্রতি ৫ শতক জমির উপরের এক ফুট মাটি বিক্রি হচ্ছে ৭-৮ হাজার টাকায়। তাতে ৪ ফুট মাটি নিলে জমির মালিক পাচ্ছেন ২৮-৩২ হাজার টাকা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. মোহিত কুমার দে বলেন, আসলে জমির টপসয়েলেই ফসল হয়। তা কেটে নিলে সেই জমিতে অন্তত ৩-৪ বছর ফসল হয় না। এটি কৃষির জন্য ভয়াবহ ক্ষতি। এজন্য আমাদের ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে।
এদিকে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০১৩, সংশোধিত ২০১৯- আইন অনুযায়ী ইটভাটার এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে যদি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, আবাসিক এলাকা বা কৃষিজমি থাকে তাহলে সেখানে ভাটা স্থাপন করা যাবে না। কিন্ত আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে ভাটা মালিকরা ইট তৈরি অব্যাহত রেখেছেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, কয়েক মাস আগে ইটভাটা করার জন্য পরিবেশ ছাড়পত্রের আবেদন করে জেলার পাঁচ উপজেলার ৬৪ জন। আবেদন যাচাই-বাছাই করে দেখা যায় শ্রীবরদী উপজেলায় ঝিকঝাক ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় হৃদয় ব্রিকস ও আরএস ব্রিকস উল্লিখিত আইনে সব নিয়ম কানুন মেনে ভাটা তৈরি করেছে। ফলে তাদের ইট তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে আইনের আওতায় না পড়ায় ৬১টি ভাটাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা ওই আদেশ না মেনে ইট উৎপাদন চালিয়ে যেতে থাকে।
চলতি ২০২২ সালে শেরপুর পৌর এলাকায় ১৬টি ই্টভাটাসহ ২৮টি ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের তরফ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড ইনফোরসম্যান শাখায় আবেদন করা হয়। পরে তারা ২৮ ভাটাকে ৬৪ লাখ টাকা জরিমানা করে এবং এক মাসের মধ্যে ভাটা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
পরে ওই ইটভাটা মালিকরা জরিমানা না দিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করে। সেই আবেদনের সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহ বিভাগের পরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ বলেন, পরিবেশের ছাড়পত্র না নিলে আমরা ইট তৈরির অনুমতি দিচ্ছি না। তবে অনেকেই আইন না মেনে ভাটা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করছি। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি ভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক মো.মোমিনুর রশিদ বলেন, পরিবেশের ছাড়পত্র না নিয়ে নিয়ে যারা ইটভাটা চালাচ্ছে তাদের জরিমানা করা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো কোনো ইটভাটাই আইন মেনে ইট পোড়াচ্ছে না। এতে পরিবেশে, জীবি বৈচিত্র্য ও কৃষি জমির ক্ষতি হচ্ছে। আবার সব ভাটা বন্ধ করে দিলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব পড়বে। সব মিলিয়ে আমরা সবাইকে নিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।