গাকৃবির
নতুন প্রো-ভিসি ড. জাহিদুর রহমানকে
নিয়ে নোমান ফারুকের স্মৃতিচারণ
‘
কৃষি
সময় প্রতিবেদক
গাজীপুর
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) নতুন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (উপ-উপাচার্য) হিসেবে
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুর
রহমান নিয়োগ পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে তাঁকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়েছেন
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অধ্যাপক আবু নোমান ফারুক আহম্মেদ ।
সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্মৃতিচারণমূলক পোস্টে
তিনি ছাত্রজীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, জাহিদ ভাই ছিলেন আমাদের কাছে একজন ‘লিজেন্ড’।
প্রফেসর
নোমান ফারুক লেখেন, “জাহিদ ভাই গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি হয়েছেন, এটা আনন্দের সংবাদ। উনি আমার অগ্রজ। আমরা যখন প্রথম বর্ষে, উনি তখন ফাইনাল ইয়ারে। আমরা ক্যাম্পাসে গিয়েই উনার কথা শুনলাম। উনি ছিলেন তাঁর ব্যাচের সেরা ছাত্র, সারাদেশে সব প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে
প্রথম—যাকে বলে ‘ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট’।”
তিনি
লিখেন, ‘জাহিদ ভাইকে একবার দেখার প্রবল ইচ্ছা ছিল তাঁর। এ বিষয়ে বড়
ভাইদের বললে তাঁরা জানান, জাহিদ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে হলে লাইব্রেরিতে যেতে হবে। সেই পরামর্শ অনুযায়ী এক বিকেলে তিনি
লাইব্রেরিতে যান।
স্মৃতিচারণ
করে তিনি লেখেন, “অফিস টাইম ৫টা বেজে গেছে অনেক আগেই। দেখি জাহিদ ভাই লাইব্রেরি থেকে রুমে ফিরছেন। হাতে অনেকগুলো বই। সঙ্গে লাইব্রেরির একজন স্টাফ, তাঁর হাত ও মাথাতেও বই।
জনশ্রুতি রয়েছে, অফিস টাইম শেষে লাইব্রেরির স্টাফরা বসে থাকতেন জাহিদ ভাই কখন বের হবেন, তারপর লাইব্রেরি বন্ধ হবে।”
নোমান
ফারুক আরও লেখেন, একদিন তিনি জাহিদ ভাইয়ের রুমে গিয়ে বলেন, “ভাই, আমাকে আপনার নোটগুলো দেন, আমি পড়ব।” তখন জাহিদ ভাই তাঁকে কিছু নোট দেন। সে সময় পড়াশোনা
হতো বাংলায়।
তিনি
জানান, জাহিদ ভাইয়ের লেখা নোটের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর শেষে তিনি বিস্তারিত রেফারেন্স দিতেন। সেখানে লেখকের নাম, বইয়ের নাম এবং পৃষ্ঠাসংখ্যা উল্লেখ থাকত। শুধু নোটেই নয়, পরীক্ষার খাতায়ও উত্তর লেখার পর একইভাবে এসব
রেফারেন্স লিখতেন। আর এ কারণেই
তিনি সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করতেন।
জাহিদুর
রহমানকে অনুসরণ করে
তিনিও নিজের নোটে রেফারেন্স সংযুক্ত করা শুরু করেন। অনেক সময় জাহিদ ভাইয়ের নোট থেকে রেফারেন্স মুখস্থ করতেন। যদিও বিষয়টি ছিল বেশ কঠিন, তবুও এর সুফল পেয়েছিলেন।
তিনি জানান, “ফার্স্ট ইয়ারে সারা দেশে আমি চতুর্থ হলাম।”
প্রফেসর
নোমান ফারুক তাঁর স্মৃতিচারণে আরও বলেন, “জাহিদ ভাই ছিলেন আমাদের কাছে লিজেন্ড। একজন মেধাবী একাডেমিশিয়ান প্রোভিসি হলেন। আশাকরি উনি ভালো অবদান রাখতে পারবেন। জাহিদ ভাইয়ের জন্য নিরন্তর শুভকামনা।”
উল্লেখ্য
যে, অধ্যাপক আবু নোমান ফারুক আহম্মেদ রাজধানীর শের-ই-বাংলা কৃষি
বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদরোগতত্ত্ব
বিভাগের অধ্যাপক। উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব, রোগ ব্যবস্থাপনা, ইন্টিগ্রেটেড পেস্ট ম্যানেজমেন্ট, মাটির জন্মগত রোগ, এবং বীজ রোগতত্ত্ব/বীজ সংক্রমণ-নির্ণয় বিষয়ক গবেষক।
অন্যদিকে,
অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুর
রহমান একই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্বের (হর্টিকালচার) একজন শিক্ষক ও গবেষক। তার
গবেষণার মূল বিষয় হলো উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে হাইড্রোপনিক (মাটিবিহীন) পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন, জলবায়ু-সহনশীল (ক্লাইমেট-স্মার্ট) কৃষি, গ্রিনহাউস নির্মাণ, সংরক্ষিত পরিবেশে চাষাবাদ (Protected
Culture) এবং প্ল্যান্ট ফ্যাক্টরি প্রযুক্তি।
মন্তব্য করুন