দুই
দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক আলু উৎসবে কৃষি উপদেষ্টা
দেশে
উৎপাদিত আলুর ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি, রপ্তানি বৃদ্ধি, আলুর ভ্যালুচেইন এডসহ বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো দেশে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক আলু উৎসব-২০২৫ শুরু হয়েছে।
শুক্রবার
রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজিত এ উৎসবের উদ্বোধন
করেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। উৎসব শেষ হবে আগামীকাল শনিবার।
বাংলাদেশ
কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ
উল্লাহ মিয়ান, বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে
ফজলুল হক ভূঁইয়া, বাংলাদেশে
নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত জরিস ভেন বোম্মেল প্রমুখ।
কৃষি
উপদেষ্টা বলেন, কৃষক সর্বশক্তি দিয়ে ফসল ফলায় কিন্তু তারা ন্যায্যমূল্য পায় না। কৃষকদের প্রতিবাদ করার জায়গাও নেই, এক্ষেত্রে সাংবাদিকরা সেই স্থানটি নিতে পারে।
তিনি
বলেন, সব কোল্ডস্টোরে আলু
রাখার ক্ষেত্রে দাম এক ধরনের হবে।
তা ছাড়া নেদারল্যান্ডসের আলুর বীজের মূল্য লিখে দিতে হবে। কেননা এসব বীজ বিভিন্ন হাত বদলের কারণে দামে পার্থক্য হয়ে যায়। এতে কৃষকরা বিপাকে পড়েন।
কৃষি
উপদেষ্টা বলেন, ২০১০ সাল থেকে আলুর উৎপাদন কম বেশি হচ্ছে।
কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। এতে অনেক সময় দাম পড়ে যায়। আবার কখনো দাম অত্যধিক হয়। গত ২০২৩ সালে
প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছিল ৬০ ও ২৪
সালে ৮০ টাকা কেজিতে।
চলতি ২০২৫ সালে ১ কোটি ১২
লাখ টন আলু উৎপাদন
হয়েছে। উৎপাদন ব্যয় ২০-২৫ টাকা।
অথচ কৃষককে বিক্রি করতে হচ্ছে ১৬-২০ টাকায়।
এ সময় তিনি ডিসেম্বর মাসে কোল্ডস্টোরে আলু রাখার আহ্বান জানান।
তিনি
বলেন, হেক্টরপ্রতি আলুর উৎপাদন তিন গুণ বেশি। আলুর অমৃত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হবে। কম খরচে বেশি
আলু উৎপাদনের উপর গুরুত্বারুপ করেন তিনি। তা ছাড়া চিপসের
আলু উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
ড.
মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, ভিয়েতনাম আমাদের কাছে সার বিক্রি করতে চায় বিনিময়ে তারা আলু আমদানি করবে। ভিয়েতনামে আগামী বছর ২ লাখ টন
আলু রপ্তানি করা হবে।
তিনি
বলেন, অপরিকল্পিতভাবে আলু উৎপাদনের কারণে বাজার স্থির থাকে না। কৃষক দাম পায় না। এজন্য আলুর নিট ডিমান্ড ঠিক করা হচ্ছে, এবার মাঠ পর্যায়ে কী পরিমাণ আলু
উৎপাদন হয় তার তথ্য
সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তিনি
বলেন, ভাতের পরেই আলুর গুরুত্ব ও প্রাপ্যতা রয়েছে।
দেশের কোন এলাকায় কী ধরনের ফসল
চাষ করা হবে তা নিয়ে কাজ
করা হচ্ছে। আলুকে অর্থকড়ি ফসল হিসেবে মাল্টি ডায়নামিক অবস্থায় নিতে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়। এজন্য আলু চাষ, বিক্রি, কোল্ডস্টোরেজসহ সম্পৃক্তদের নিয়ে অচিরেই বৈঠক করা হবে।
মোস্তফা
আজাদ চৌধুরী বাবুর বলেন, চালের পর আলু অর্থকড়ি
ফসল। ২০১০ সালের পর থেকে অনেক
বছর আলুর চাষ বেশি হয়েছে। বিশেষ করে ১০, ১৫ ও ১৭
সালে বেশি আলু চাষ হয়েছে। এ সময় কৃষক
ন্যায্য দাম পায়নি।
তিনি
বলেন, ২০২৫ সালে ২২ লাখ টন
বেশি আলু উৎপাদিত হয়েছে। সাধারণত নভেম্বরে সব কোল্ডস্টোরে আলু
শেষ হয়ে গেলেও এবার ৭ লাখ টন
রয়ে গেছে। ৬-৮ টাকা
কেজিতে আলু বিক্রি হচ্ছে অথচ উৎপাদন ব্যয় ২৫ টাকা।
তিনি
বলেন, ভারত-পাকিস্তানে উৎপাদন ব্যয় ১০ টাকা কেজি
হলেও আমাদের দেশে ২০-২৫ টাকা।
উৎপাদন ব্যয় কমাতে হবে।
ড.
এ কে ফজলুল হক
ভূঁইয়া বলেন, দেশের দ্বিতীয় অর্থকড়ি ফসল আলু। ভাত না থাকলেও আলু
খেয়ে মানুষ থাকতে পারে। কীভাবে আলুর ভ্যালুচেইন করা যায় তা নির্ধারণ করতে
হবে। তা ছাড়া আলু
উৎপাদনকারীরা যাতে ন্যায্য মূল্য পায় তা নিশ্চিত করতে
হবে।
তিনি
গবেষণার উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, নেদারল্যান্ড থেকে বীজ আনতে পারেন কিন্তু সেটি দেশের কোন অঞ্চলে কতটা ফলন হয় তা দেখতে
হবে। এজন্য গবেষণার বিকল্প নেই। আলু উৎপাদনকারীদের জন্য দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে স্কুল করা যায়।
মেলায়
মিষ্টি আলুর কুরমুড়ি, আলুর হালুয়া, নকশিপিঠা, কেক, পেঁয়াজু, চানাচুর, পায়েস, রসমালাই, রসগোল্লাসহ আলু দিয়ে তৈরি নানা ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে।
মেলা
কর্তৃপক্ষ জানায়, মেলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিলে
৬৬টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। পাশাপাশি আলু চাষাবাদের জন্য বিভিন্ন উপকরণ, হিমাগারে আধুকি পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মূল্য সংযোজন, রপ্তানি, কোল্ড-চেইন প্রযুক্তি, কৃষি যন্ত্রপাতি, আলুর তৈরি বিভিন্ন খাদ্যপণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন