নিজস্ব প্রতিবেদক
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলে মৎস্য ও একোয়াকালচার নির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় পাঁচ বছর ধরে কাজ করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। কমিউনিটি-ভিত্তিক জলবায়ু সহনশীল মৎস্য ও একোয়াকালচার উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে উপকূলের হাজারো পরিবার পেয়েছে আয় বৃদ্ধির সুযোগ, শিখেছে জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তি, উন্নত হয়েছে তাদের দুর্যোগ প্রস্তুতি ও খাদ্য নিরাপত্তা।
গত বুধবার ‘গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ) সমর্থিত এবং মৎস্য অধিদফতরের সহযোগিতায় এফএও পরিচালিত ‘কমিউনিটি-ভিত্তিক জলবায়ু সহনশীল মৎস্য ও একোয়াকালচার উন্নয়ন’ প্রকল্পটির পাঁচ বছরের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত প্রকল্পের টার্মিনাল ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
সমাপনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় উপকূলীয় ৯টি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জলবায়ু ঝুঁকি মূল্যায়ন, জলবায়ু-স্মার্ট একোয়াকালচার প্রযুক্তি প্রয়োগ, কমিউনিটি-ভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, আগাম সতর্কীকরণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জীবিকা বহুমুখীকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ফরিদা আখতার বলেন, ‘আজ আমরা যে ফলাফল দেখছি, তা সহযোগিতা, উদ্ভাবন এবং কমিউনিটির উদ্দীপনা দ্বারা কী অর্জন করা সম্ভব তার এক বাস্তব উদাহরণ। প্রকল্পে অংশ নেয়া পরিবারগুলোর আয় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে এবং ৭২.৬ শতাংশ বেশি মাছ উৎপাদন করেছে। এটি খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জলবায়ু ধাক্কার বিরুদ্ধে স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।’
বাংলাদেশে এফএও’র প্রতিনিধি ভ্যালান্টাইন আচ্যাঞ্চো বলেন, ‘কমিউনিটি পর্যায়ে এই প্রকল্প মৎস্যজীবী, একোয়াকালচার চাষি এবং জলাশয়নির্ভর মানুষের জীবনে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। হাজার হাজার পরিবার জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু-সহনশীল অভিযোজন কৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছে।’
মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুর রউফ বলেন, ‘উন্নত একোয়াকালচার, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তি এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রকল্পটি জীবিকা সুরক্ষা এবং টেকসই খাদ্যব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।’
অংশগ্রহণকারী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটির অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে উপকূলীয় জলবায়ু সহনশীল মৎস্য ও একোয়াকালচার উন্নয়নের মডেল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।