নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যাসিবাদ পতনের পর দেশের অন্যান্য খাতের মতো কৃষি খাতেও অস্থিরতা শুরু হয়। ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ভারতে পালানোর পর কৃষি খাতের বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থায় শুরু হয় অস্থিরতা। ফ্যাসিবাদী আমলে সুবিধাভোগীদের সরিয়ে নতুনরা সেসব জায়গা দখলের প্রতিযোগীতায় নামেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিএনপি, জামায়াতপন্থি কর্মকর্তা-কর্মচারী সফল হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদ সরকারের সুবিধাভোগীদের সরিয়ে তাদেরই অনুসারীদের পদায়ন করা হয়।
সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা তৈরি হয় কৃষির আতরঘর খামারবাড়িতে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, শেরে বাংলানগর ও পল্টন থানায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হত্যা-হত্যাচেষ্টা মামলায় কমপক্ষে ৭০ জন বিসিএস ক্যাডার অফিসারকে আসামি করা হয়। এছাড়া আরো কিছু সাবেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীও এসব মামলায় আসামি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ফ্যাসিবাদের পতনের পর গুরুত্বপূর্ণ চেয়ার দখল নিয়ে সবাই ব্যতিব্যস্ত হওয়ায় মাঠ কৃষির তদারকি ও সম্প্রসারণ গতি হারায়। খামারবাড়ি কেন্দ্রিক তৎপরতা বাড়ে৷ কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরাও ব্যস্ত হয়ে পড়েন খামারবাড়ি সহ দপ্তর/সংস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে। সবকিছু মিলে বিদায়ী বছরে গতি হারানো কৃষিতে গতি ফেরানোই নতুন বছরের চ্যালেঞ্জ।
খামারবাড়ি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মামলার আশঙ্কায় অনেক কর্মকর্তা নিয়মিত সিদ্ধান্ত নিতে অনীহা দেখিয়েছেন বিগত সময়ে। ফাইল নিষ্পত্তি, মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত—সব ক্ষেত্রেই এক ধরনের ‘ডিফেন্সিভ অ্যাপ্রোচ’ লক্ষ্য করা গেছে। এর ফলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মূল দায়িত্ব, অর্থাৎ কৃষকের কাছে সময়মতো প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম ছিল অনেকটাই স্থবির।
এই স্থবিরতার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে মাঠের কৃষিতে। বিভিন্ন ফসলের মৌসুমে অনেক এলাকায় নিয়মিত ব্লক ভিজিট হয়নি।
খামারবাড়িতে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কৃষি মন্ত্রণালয়। গত বছর কৃষিখাতে সবচেয়ে আলোচনার বিষয় এটি। তাছাড়া, কৃষিসচিব ড. এমদাদ উল্লাহ মিয়ানকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে রাজপথে নানা কর্মসূচি পালন এ খাতেট বছরের আলোচিত ঘটনা।
কৃষি সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তর ও সংস্থাতেও নানা সংকটে কেটেছে। ফ্যাসিবাদের আমলের সংস্থা প্রধানকে সরিয়ে একই ধারার কর্মকর্তাকে পদায়ন নিয়ে আন্দোলন হয়েছে পাট গবেষণা ইন্সটিটিউট সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে।
কৃষি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষিখাতে বেশ কিছু প্রকল্প শেষ হয়েছে। আরো কিছু প্রকল্প শেষ হওয়ার পথে। নতুন বছরে কৃষিতে কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। আরো কয়েকটি প্রকল্প প্রস্তত রয়েছে। নতুন প্রকল্প মাঠে নিয়ে মাঠের কর্মকর্তাদের কাজের তদারকি করলে কৃষি খাতে গতি ফিরে আসবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।