নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের মৎস্যখাতকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের হাতে তুলে দিতে এবং তরুণ মৎস্যবিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, চিন্তাশক্তি ও পেশাগত প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্যে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইয়ং ফিশারিজ স্টুডেন্টু কংগ্রেস-২০২৫’। একাডেমিক জ্ঞান, গবেষণা, নীতিনির্ধারণ ও বাস্তব খাতের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তরুণদের সামনে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যয়ে এই কনফারেন্স মৎস্যখাতে টেকসই উন্নয়নের বার্তা দিয়েছে।
ফিশারিজ সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এফএসবি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগ এবং বাংলাদেশ ফিশারিজ এক্সিকিউটিভ এসোসিয়েশন (বিএফইএ)-এর যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে দিনব্যাপী এই কনফারেন্স আয়োজন করা হয়।
কনফারেন্সের
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ
খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র।
উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ফিশারিজ সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি
অধ্যাপক ড. মো. আবুল
মনসুর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, মৎস্যখাত শুধু খাদ্যনিরাপত্তা নয়, পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এই খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি অপরিহার্য। তরুণ মৎস্যবিজ্ঞানীদের আধুনিক প্রযুক্তি ও বাস্তব সমস্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব হবে।
বিশেষ
অতিথিরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, রোগবালাই, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারের
প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে মৎস্যখাতে দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের
প্রয়োজন বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের গবেষণা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের কনফারেন্স
কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
দিনব্যাপী
কনফারেন্সে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন সেশন, মতবিনিময় ও আলোচনা অনুষ্ঠিত
হয়। এতে মৎস্যখাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা, আধুনিক চাষ প্রযুক্তি, গবেষণার ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সন্ধ্যার ক্লোজিং পর্বে আয়োজকদের পক্ষে প্রথমে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফিশারিজ এক্সিকিউটিভ এসোসিয়েশনের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মো. রাশেদুজ্জামান দিপু। সমাপনী বক্তব্য দেন ফিশারিজ সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবুল মনসুর, সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ অধ্যাপক ড. মো. রফিকুজ্জামান বকুল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মামুন চৌধুরী। তাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই জমকালো আয়োজনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
কনফারেন্সে বাংলাদেশ ফিশারিজ এক্সিকিউটিভ এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মৎস্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাবৃন্দ, মৎস্য অনুষদের শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, আমন্ত্রিত অতিথি এবং মৎস্য খাতের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই
আয়োজন তরুণ মৎস্যবিজ্ঞানীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ এবং দেশের মৎস্যখাতকে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন