
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজবাড়ী
জেলাসহ পেঁয়াজ ও রসুন অধিক
উৎপাদনশীল এলাকায় প্রকল্পের আওতায় মোট ৮ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
বুধবার
(১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশের ১৪তম দিনে মো: হারুন-অর-রশিদের সর্ম্পরক
প্রশ্নোত্তর জবাবে এ তথ্য জানান
তিনি। জাতীয় সংসদের এ অধিবেশনে সভাপাতিত্ব
করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
কৃষিমন্ত্রী
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন,
পেঁয়াজ সংরক্ষণের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে প্রকল্প প্রণোদনার মাধ্যমে পাংসা উপজেলায় ৫০৫টি কালুখালি উপজেলায় ২৬০টি এবং বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৪৯৫টি এয়ার-ফ্লো মেশিন সরবরাহ ও স্থাপন করা
হয়েছে। এছাড়া এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ রসুন সংরক্ষণের লক্ষ্যে কৃষি বিপনন অধিদফতর কর্তৃক বায়ু প্রবাহ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ
পদ্ধতি আধুনিকায়ন ও বিতরণ কার্যক্রম
উন্নয়ন শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে পর্যালোচনার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় রয়েছে।
প্রকল্পের
আওতায় রাজবাড়ী জেলাসহ পেঁয়াজ ও রসুন অধিক
উৎপাদনশীল এলাকায় মোট ৮ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুমোদন সাপেক্ষে রাজবাড়ি-২ -এর পাংসা,
বালিয়াকান্দা, কালুখালি উপজেলায় ৮০০ থেকে এক হাজার এয়ারফ্লো
মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মোহাম্মদ
আমিনুর রশিদ তার প্রশ্নে বলেন, মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আমার জিজ্ঞাসা বর্তমানে বাংলাদেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজের
চাহিদা রয়েছে, আমাদের দেশে কিন্তু সেই পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে আমরা প্রতিবছর ছয় সাত লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমাদের
নষ্ট হয়ে যায়। মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আমার প্রশ্ন—পেঁয়াজ যেসব অঞ্চলে পেঁয়াজ বেশি করে উৎপাদন হয়, সেইসব অঞ্চলের পেঁয়াজ সংগ্রহের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ এয়ার-ফ্লো মেশিনের মাধ্যমে মডেল ঘর তৈরি করা
হয়, একটা মডেল ঘর তৈরি করতে
চার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ হয় যেখানে আমরা
নির্বিঘ্নে ৬০০ থেকে ৮০০ মন পেঁয়াজ সংরক্ষণ
করতে পারি। পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য যাতে আমাদের ক্রাইসিসের সময় বাইরে থেকে আমদানি করা না হয় সেজন্য
জরুরি কোনও ব্যবস্থা আপনি গ্রহণ করবেন কিনা?
জবাবে
কৃষিমন্ত্রী বলেন, একেবারে সঠিক প্রশ্ন করেছেন। এটা দেশের জন্য একটা বড় ধরনের সমস্যা
ছিল। বাংলাদেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ
উৎপাদন হয়। বিশেষ করে রাজবাড়ী উপজেলা পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গা। যে পরিমাণ পেঁয়াজ
উৎপাদন হয় এই পেঁয়াজ শুধু
সঠিক সংরক্ষণ করতে না পারায় ২৫
থেকে ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ
নষ্ট হয়ে যায়। এরই মধ্যে আমাদের নতুন যে আমরা এয়ার-ফ্লো মেশিনের মাধ্যমে যে সংরক্ষণ চালু
করেছি। আমি আগেই বলে দিয়েছি এটা ওই যেই উপজেলাগুলোতে
পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমরা এজ আর্লি এস
পসিবল এটাতে ট্রাই করে দেখা যায়- আট থেকে নয়
মাস পর্যন্ত ওই নিয়মে পেঁয়াজ
সংরক্ষণ করা যায়। সেখানে অপচয় মাত্র দুই থেকে চার পারসেন্ট। শুধু অপচয়টা যদি রোধ করা যায় তাহলে পেঁয়াজে একেবারে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে যাব। আমরা ওই সংরক্ষণের এয়ার-ফ্লো মেশিন, যেটা থেকে এক হাজার আমরা
খুব দ্রুততম সময় দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। এই মেশিনগুলো আমরা
প্রায় এক হাজার শুধু
এই দুই-তিনটা উপজেলাতে আগামী সিজনে দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য আমরা চিন্তাভাবনা করছি। আমরা আশা করি এতে করে বাংলাদেশের কৃষক পেঁয়াজ অপচয় থেকে বেঁচে যাবে এবং বাংলাদেশ পেঁয়াজে স্বয়ং সম্পূর্ণ হবে ইনশাআল্লাহ।