প্রিন্ট এর তারিখঃ May 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 15, 2025 ইং
যুগের পর যুগ যেখানে যুগলজীবনের শুরু
হিমালয়ের কোল ঘেঁষে নেপালের পোখরায় অবস্থিত প্রায় আড়াই শতাব্দী প্রাচীন বিন্দাবাসিনী মন্দির। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই মন্দিরটি কেবল তার স্থাপত্যশৈলীর জন্যই নয়, বরং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এক পবিত্র মিলনস্থল হিসেবেও সমাদৃত। প্রতিদিন শত শত ভক্তের পদচারণায় মুখরিত এই মন্দিরে পূজার পাশাপাশি নিয়মিতভাবে সম্পন্ন হয় হিন্দুদের পবিত্র বিবাহ বন্ধন।
হিন্দু ধর্মে বিবাহকে একটি অন্যতম প্রধান সংস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিন্দাবাসিনী মন্দিরে এই সংস্কার পালিত হয় প্রাচীন বৈদিক রীতিনীতি মেনে। শঙ্খধ্বনি আর পুরোহিতের উদাত্ত কণ্ঠে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণে বর ও কনে অগ্নিকে সাক্ষী রেখে সাত পাকে আবদ্ধ হন। এখানে অগ্নি কেবল সাক্ষী নয়, বরং পবিত্রতার প্রতীক। অগ্নির উপস্থিতিতে নেওয়া শপথগুলোই একজন নর ও নারীকে আমৃত্যু একত্রে থাকার অঙ্গীকারে আবদ্ধ করে।
বিবাহের আচারগুলোতে কনের সাজসজ্জা এবং প্রতীকের গুরুত্ব অপরিসীম। কনের সিঁথিতে উজ্জ্বল সিঁদুর এবং হাতে শাঁখা-পলা পরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেওয়া হয় নতুন এক পরিবারে। এই প্রতীকগুলো যেমন বৈবাহিক স্থিতির পরিচয় দেয়, তেমনি মনে করিয়ে দেয় একজন নারীর নতুন দায়িত্ব ও ত্যাগের কথা। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস, দেবী বিন্দাবাসিনীর আশীর্বাদে এই মন্দিরে সূচিত হওয়া দাম্পত্য জীবন হয় অত্যন্ত সুখী, শান্তিময় ও দীর্ঘস্থায়ী।
পাহাড়ের মনোরম পরিবেশে ঘেরা এই মন্দিরটি আজও সহস্রাধিক দম্পতির নতুন জীবন শুরুর সাক্ষী। প্রাচীন ঐতিহ্য, অগাধ বিশ্বাস আর ভালোবাসার মেলবন্ধনে বিন্দাবাসিনী মন্দির কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং এটি একটি পবিত্র সংস্কৃতির ধারক। পর্যটন নগরী পোখরার পাহাড়ের ছায়ায় এই মন্দির আজও অমলিন ঐতিহ্যের মশাল বহন করে চলেছে, যেখানে প্রতি বছর শত শত নতুন সম্পর্কের সূচনা ঘটে।