নেপালের পর্যটননগরী পোখারা
শুধু তার অপূর্ব পাহাড়, লেক আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই পরিচিত নয়; শহরের রাস্তার
মোড়ে মোড়ে বসে থাকা ফল বিক্রেতা নারীরাও এই নগরজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভোরের আলো
ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই নানা বয়সি নারী হাতে ঝুড়ি কিংবা ছোট ঠেলাগাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন
জীবিকার সন্ধানে। কোথাও তারা রাস্তার পাশে বসে পড়েন, কোথাও আবার ব্যস্ত মোড়ে দাঁড়িয়ে
ডাক দেন ক্রেতাদের।
তাদের ফলের পসরা বেশিরভাগই
স্থানীয় পাহাড়ি অঞ্চল থেকে আসা। কমলা, কলা, আপেল, পেঁপে, আনারসের পাশাপাশি মৌসুমি ফলও
দেখা যায়। অনেক নারী নিজেরাই ভোরে পাইকারি বাজার থেকে ফল কিনে আনেন, আবার কেউ কেউ বাড়ির
বাগানে ফল ফলিয়ে তা বিক্রি করেন। পর্যটকদের আনাগোনায় এসব ফলের চাহিদা বেশি থাকায় বিক্রি
তুলনামূলক ভালো হয়, তবে আবহাওয়া খারাপ হলে কিংবা পর্যটক কম থাকলে আয়ও কমে যায়।
এই নারীদের বেশিরভাগই নিম্ন
আয়ের পরিবারের সদস্য। কারও স্বামী দিনমজুর, কারও আবার সংসারের পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধেই।
সন্তানদের পড়াশোনার খরচ, বাসাভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে প্রতিদিন ঘণ্টার পর
ঘণ্টা রাস্তায় বসে থাকতে হয় তাদের। কখনো প্রচণ্ড রোদ, কখনো বৃষ্টি—সব প্রতিকূলতাকে
সঙ্গী করেই চলে তাদের সংগ্রাম।
তবে এই কঠিন বাস্তবতার মাঝেও
তারা আত্মসম্মান আর দৃঢ়তায় অটল। নিজেদের শ্রমেই টিকে থাকার গর্ব স্পষ্ট তাদের চোখেমুখে।
পোখারার রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসে থাকা এসব ফল বিক্রেতা নারী শুধু পণ্য বিক্রি করেন না;
তারা বহন করেন নেপালের সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, আত্মনির্ভরতার আকাঙ্ক্ষা আর নীরব
সাহসের গল্প।